
গত ১৪ জুলাই ২০২৫ তারিখ কক্সবাজার বিয়াম আঞ্চলিক কেন্দ্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোঃ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অবঃ) মহোদয়ের সভাপতিত্বে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক একটি বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায়, জিওসি ১০ পদাতিক ডিভিশন এর নেতৃত্বে বিভিন্ন আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা এবং স্থানীয় জনপ্রশাসনের সমন্বয়ে একটি টাস্কফোর্স গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। তৎপ্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এর প্রজ্ঞাপনের আলোকে গত ২০ জুলাই ২০২৫ তারিখে ‘রোহিঙ্গা ক্যাম্পসহ কক্সবাজার এলাকায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণের জন্য টাস্কফোর্স’ গঠন করা হয়। সোমেন মন্ডল, উপপরিচালক, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, কক্সবাজার এই কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে রয়েছেন।
আপনারা অবগত আছেন যে, সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে আসা মাদকদ্রব্য কক্সবাজার এবং তৎসংলগ্ন অঞ্চলকে মাদক চোরাচালানের অন্যতম ট্রানজিট পয়েন্ট/প্রবেশপথ এবং সংরক্ষণ স্থান হিসেবে ব্যবহার করে সমগ্র দেশে ছড়িয়ে পড়ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্রিয় অভিযান সত্বেও মাদক কারবারীরা প্রতিনিয়ত কৌশল পরিবর্তন করছে এবং অভিনব উপায়ে মাদক চোরাচালান অব্যাহত রেখেছে। সড়ক পথের পাশাপাশি, রেলপথ এবং সমুদ্র ও নদী পথ ব্যবহার করে মাদক চোরাচালান হচ্ছে।
কক্সবাজার ও পারিপার্শ্বিক এলাকা দিয়ে মাদক পাচারের যে নেটওয়ার্ক তৈরী হয়েছে তা বিপর্যস্ত ও সমূলে ধ্বংস করার লক্ষ্যে টাস্কফোর্স কাজ শুরু করেছে। টাস্কফোর্স এর কাজের মূল তিনটি ধারা রয়েছেঃ
ক। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা এবং সশস্ত্র বাহিনীর সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে মাদকবিরোধী নজরদারী বাড়ানো সহ সাড়াশি অভিযান পরিচালনা করা।
খ। মাদক চোরাচালান রোধে সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলা এবং
গ। মাদক সংক্রান্ত মামলাগুলোর দ্রুত আইনি নিষ্পত্তি নিশ্চিত করা।
এই সকল ধারাকে সামনে রেখে টাস্কফোর্স ইতোমধ্যে এক যোগে কাজ শুরু করেছে। যার ফলশ্রুতিতে, গত ১৫ জুলাই ২০২৫ তারিখ থেকে অদ্যাবধি, এই স্বল্প সময়ের মধ্যে, মাদকবিরোধী টাস্কফোর্সের সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে ২১,৭৯,৪৮৩ পিস ইয়াবা, ১৪৯২.৫ লিটার বাংলা মদ, ৩৮ কেজি ৩২১ গ্রাম গাঁজা, ৭৩৫ ক্যান বিয়ার এবং ২ কেজি ৫৮৫ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথ জব্দ করা হয়েছে। এই সময়ে ৩৪৭ জন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে মামলা প্রদান করা হয়েছে। এই টাস্কফোর্সের কার্যক্রম কে আরোও সুসংহত করতে টাস্কফোর্স সকলের সহযোগীতা প্রত্যাশা করে।
টাস্কফোর্স মাদক চোরাচালান রোধে সামাজিক সচেতনতার উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে। সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করা গেলে মানুষ নিজেরা মাদক গ্রহণ থেকে বিরত থাকবে, মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলবে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহায়তা করবে। দীর্ঘমেয়াদে এই সচেতনতা একটি স্থায়ী সামাজিক আন্দোলনে রূপ নিলে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মাদকের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা পাবে। শিক্ষক, স্থানীয় এবং ধর্মীয় নেতাদের সমাজের প্রতিটি স্তরে, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কার্যকর সম্পৃক্ততার মাধ্যমে সামাজিক সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। এই বিষয়ে মাদক বিরোধী টাস্কফোর্স গণমাধ্যমের সর্বাত্মক সহায়তা কামনা করে। টাস্কফোর্স বিশ্বাস করে সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে কক্সবাজার অঞ্চল দিয়ে মাদকের চোরাচালানের যে নেটওয়ার্ক তৈরী হয়েছে তা বন্ধ করতে সক্ষম হব এবং ভবিষ্যতে একটি মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে অবদান রাখতে পারবে।